রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

হাদিস নং: ৫৮৭৫ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৭৫/১০: মূসা ইব্ন ঈসমাঈল (রঃ) ……… হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, নবী (সাঃ) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় সময় নিজ হাতখানা গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেন : “ইয়া আল্লা! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই ।” আর যখন জাগতেন তখন বলতেন : “সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরূত্থান ।” 

হাদিস নং: ৫৮৭৬ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৭৬/১১: মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… হযরত বারা‘ ইব্ন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর ঘুমাতেন এবং বলতেন : “ইয়া আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সোপর্দ করলাম, এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আর আমার আমার সব বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে আপনার রহমতের আশায় । আপনি ছাড়া কারো আশ্রয় নেই আর নেই কোন গন্তব্য । আপনার নাযিলকৃত কিতাবে ঈমান আনলাম এবং আপনার প্রেরিত নবী (সাঃ) এর প্রতিও । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শোয়ার সময় এ দু‘আগুলো পড়বে, আর সে এ রাতেই মৃত্যুবরণ করলে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে ।

হাদিস নং: ৫৮৭৭ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৭৭/১২: আলী ইব্ন আব্দুল্লাহ (রঃ) ……… হযরত ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একবার আমি মায়মূনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটালাম । তখন নবী (সাঃ) উঠে তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শূয়ে পড়লেন । কিছুক্ষণ পরে আবার জেগে উঠে পানি মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন । এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন যে, তাতে বেশী পানি লাগালেন না । অথচ পুরা অযূই করলেন । তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন । তখন আমিও জেগে উঠলাম । তবে আমি কিছু দেরী করে উঠলাম । এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন । যা হোক আমি অযূ করলাম । তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন । সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম দিকে দাঁড়িয়ে গেলাম । তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন । এরপর তাঁর তেরো রাকা‘আত সালাত পূর্ণ হলো । তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন । এমনকি নাক ডাকতেও লাগলেন । তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন । এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে জাগালেন । তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন । তাঁর দু‘আর মধ্যে এ দু‘আও ছিল : “ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নিচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করূন ।” কুরায়ব (রঃ) বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত । এরপর আমি আব্বাস (রাঃ) এর পুত্রদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, গোশত, রক্ত, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দুটি কথা উল্লেখ করেন ।

হাদিস নং: ৫৮৭৮ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৭৮/১৩: আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (রঃ) ……… হযরত ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, যখন নবী (সাঃ) তাহাজ্জুদের সালাতে দাঁড়াতেন, তখন বলতেন : “ইয়া আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর । আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই । আসমান, যমীন এবং এ দু‘এর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়েম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই । আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র আপনারই । আপনিই সত্য, কিয়ামত সত্য, পয়গাম্বরগণ সত্য এবং মুহাম্মদ (সাঃ) সত্য । ইয়া আল্লাহ! আপনারই উপর ঈমান এনেছি । আপনারই দিকে ফিরে চলছি । শত্রুদের সাথে আপনারই খাতিরে শত্রুতা করি । আপনারই নিকট বিচার চাই । অতএব আমার আগের পরের এবং লুকায়িত প্রকাশ্য গুনাহসমূহ আপনি মাফ করে দিন । আপনিই কাউকে এগিয়ে দেন, আর কাউকে পিছিয়ে দেন আপনি ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই ।”

হাদিস নং: ৫৮৭৯ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৭৯/১৪: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । একবার গম পেষার চাক্কি ঘুরানোর কারণে হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল । তখন তিনি একটি খাদেম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নবী (সাঃ) এর কাছে এলেন । কিন্ত তিনি তাঁকে পেলেন না । তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি হযরত আয়িশা (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন । এরপর তিনি যখন ঘরে এলেন তখন হযরত আয়িশা (রাঃ) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন । তারপর নবী (সাঃ) আমাদের কাছে এমন সময় আসলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছি । তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেন : নিজ জায়গায়ই থাকো । তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনভাবে বসে গেলেন যে, আমি তাঁর দু‘পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম । তিনি বললেন : আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল বাতলে দেবনা ?যা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী উত্তম । যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমরা “আল্লাহু আকবার” ৩৩বার, “সুবহা-নাল্লাহ” ৩৩বার এবং “আলহামদুলিল্লাহ” ৩৩বার পড়বে । এটা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী মঙ্গলজনক । ইব্ন সীরীন (রঃ) বলেণ : তাসবীহ্ হলো ৩৪বার ।

হাদিস নং: ৫৮৮০ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৮০/১৫: আব্দুল্লাহ  ইব্ন ইউসুফ (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যেতেন, তখন মুয়াওবিযাত (সূরা ফালাক ও নাস) পড়ে তাঁর দু’হাতে ফুঁক দিয়ে তা শরীরে মাসেহ্ করতেন ।

হাদিস নং: ৫৮৮১ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৮১/১৬: আহমদ ইব্ন ইউনুস (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেন : যদি তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয় । কারণ, সে জানেনা যে, বিছানার উপর তার অবর্তমানে কষ্টদায়ক কোন কিছু রয়েছে কিনা । তারপর পড়বে : “হে আমার প্রতিপালক! আপনারই নামে আমার দেহখানা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠাবো । যদি আপনি ইতিমধ্যে আমার জান কবয করে নে; তাহলে , তার উপর দয়া করবেন । আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযত করে থাকেন ।

হাদিস নং: ৫৮৮২ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৮২/১৭: আব্দুল আযীয ইব্ন আব্দুল্লাহ (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটতম আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন : আমার নিকট দু’আ করবে কে ? আমি তার দু’আ কবূল করবো । আমার নিকট কে চাবে ? আমি তাকে দান করবো । আমার কাছে কে তার গুনাহ মাফী চাবে ? আমি তাকে মাফ করে দেবো ।

হাদিস নং: ৫৮৮৩ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৮৩/১৮: মুহাম্মদ ইব্ন আর‘আরা (রঃ) ……… আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ)বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেন : “ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পুরূষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানাহ্ চাচ্ছি ।

হাদিস নং: ৫৮৮৪ (দু‘আ অধ্যায়)

৫৮৮৪/১৯: মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… শাদ্দাদ ইব্ন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । নবী (সাঃ) বলেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো : “ইয়া আল্লাহ! আপনিই আমার পালনকর্তা । আপনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই । আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই গোলাম । আর আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গিকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়েম আছি । আমি আমার প্রতি আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং কৃতগুনাহসমূহকে স্বীকার করছি । সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন । কারন আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই । আমি আমার কৃতগুনাহের মন্দ পরিণাম থেকে আপনার কাছে পানাহ্ চাচ্ছি ।” যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় এ দু’আ পড়বে, আর এ রাতেই মারা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে । রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন : সে হবে জান্নাতী । আর যে ব্যক্তি সকালে এ দু’আ পড়বে, আর এ দিনই মারা যাবে সেও অনুরূপ জান্নাতী হবে ।