৫৮৭৫/১০: মূসা ইব্ন ঈসমাঈল (রঃ) ……… হযরত হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি
বলেন, নবী (সাঃ) রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় সময় নিজ হাতখানা গালের নীচে রাখতেন, তারপর
বলতেন : “ইয়া আল্লা! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই ।” আর যখন জাগতেন তখন বলতেন
: “সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে
আমাদের পুনরূত্থান ।”
কুরআন শরীফ,বুখারী শরীফ,মুসলিম শরীফ,নাসায়ী শরীফ,আবু দাউদ শরীফ,তিরমিযী শরীফ,ইবনে মাজাহ শরীফ
রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২
হাদিস নং: ৫৮৭৬ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৭৬/১১: মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… হযরত বারা‘ ইব্ন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত ।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর ঘুমাতেন
এবং বলতেন : “ইয়া আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সোপর্দ করলাম, এবং আমার চেহারা
আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আর আমার আমার সব বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে আপনার রহমতের
আশায় । আপনি ছাড়া কারো আশ্রয় নেই আর নেই কোন গন্তব্য । আপনার নাযিলকৃত কিতাবে ঈমান
আনলাম এবং আপনার প্রেরিত নবী (সাঃ) এর প্রতিও । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি
শোয়ার সময় এ দু‘আগুলো পড়বে, আর সে এ রাতেই মৃত্যুবরণ করলে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই
মরবে ।
হাদিস নং: ৫৮৭৭ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৭৭/১২: আলী ইব্ন আব্দুল্লাহ (রঃ) ……… হযরত ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত
। তিনি বলেন, একবার আমি মায়মূনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটালাম । তখন নবী (সাঃ) উঠে তাঁর
প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শূয়ে পড়লেন । কিছুক্ষণ পরে আবার জেগে উঠে পানি মশকের
নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন । এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন যে, তাতে বেশী পানি লাগালেন
না । অথচ পুরা অযূই করলেন । তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন । তখন আমিও জেগে উঠলাম
। তবে আমি কিছু দেরী করে উঠলাম । এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে
দেখে ফেলেন । যা হোক আমি অযূ করলাম । তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন । সুতরাং
আমি গিয়ে তাঁর বাম দিকে দাঁড়িয়ে গেলাম । তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে
ঘুরিয়ে নিলেন । এরপর তাঁর তেরো রাকা‘আত সালাত পূর্ণ হলো । তারপর তিনি আবার কাত হয়ে
ঘুমিয়ে পড়লেন । এমনকি নাক ডাকতেও লাগলেন । তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন
। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে জাগালেন । তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন
। তাঁর দু‘আর মধ্যে এ দু‘আও ছিল : “ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার
কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নিচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করূন ।”
কুরায়ব (রঃ) বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত । এরপর আমি আব্বাস (রাঃ) এর পুত্রদের একজনের
সঙ্গে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, গোশত, রক্ত,
চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দুটি কথা উল্লেখ করেন ।
হাদিস নং: ৫৮৭৮ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৭৮/১৩: আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (রঃ) ……… হযরত ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে
বর্ণিত । তিনি বলেন, যখন নবী (সাঃ) তাহাজ্জুদের সালাতে দাঁড়াতেন, তখন বলতেন : “ইয়া আল্লাহ!
সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে,
আপনিই তাদের নূর । আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই । আসমান, যমীন এবং এ দু‘এর মধ্যে
যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়েম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই । আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র
আপনারই । আপনিই সত্য, কিয়ামত সত্য, পয়গাম্বরগণ সত্য এবং মুহাম্মদ (সাঃ) সত্য । ইয়া
আল্লাহ! আপনারই উপর ঈমান এনেছি । আপনারই দিকে ফিরে চলছি । শত্রুদের সাথে আপনারই খাতিরে
শত্রুতা করি । আপনারই নিকট বিচার চাই । অতএব আমার আগের পরের এবং লুকায়িত প্রকাশ্য গুনাহসমূহ
আপনি মাফ করে দিন । আপনিই কাউকে এগিয়ে দেন, আর কাউকে পিছিয়ে দেন আপনি ছাড়া আর কোন মাবূদ
নেই ।”
হাদিস নং: ৫৮৭৯ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৭৯/১৪: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । একবার
গম পেষার চাক্কি ঘুরানোর কারণে হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল । তখন তিনি
একটি খাদেম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নবী (সাঃ) এর কাছে এলেন । কিন্ত তিনি তাঁকে পেলেন
না । তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি হযরত আয়িশা (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন । এরপর তিনি
যখন ঘরে এলেন তখন হযরত আয়িশা (রাঃ) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন । তারপর নবী (সাঃ) আমাদের
কাছে এমন সময় আসলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছি । তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি
বললেন : নিজ জায়গায়ই থাকো । তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনভাবে বসে গেলেন যে, আমি
তাঁর দু‘পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম । তিনি বললেন : আমি কি তোমাদের এমন
একটি আমল বাতলে দেবনা ?যা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী উত্তম । যখন
তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমরা “আল্লাহু আকবার” ৩৩বার, “সুবহা-নাল্লাহ” ৩৩বার
এবং “আলহামদুলিল্লাহ” ৩৩বার পড়বে । এটা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী
মঙ্গলজনক । ইব্ন সীরীন (রঃ) বলেণ : তাসবীহ্ হলো ৩৪বার ।
হাদিস নং: ৫৮৮০ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৮০/১৫: আব্দুল্লাহ ইব্ন ইউসুফ
(রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন (ঘুমাবার জন্য) বিছানায়
যেতেন, তখন মুয়াওবিযাত (সূরা ফালাক ও নাস) পড়ে তাঁর দু’হাতে ফুঁক দিয়ে তা শরীরে মাসেহ্
করতেন ।
হাদিস নং: ৫৮৮১ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৮১/১৬: আহমদ ইব্ন ইউনুস (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি
বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেন : যদি তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির
ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয় । কারণ, সে জানেনা যে, বিছানার উপর তার অবর্তমানে
কষ্টদায়ক কোন কিছু রয়েছে কিনা । তারপর পড়বে : “হে আমার প্রতিপালক! আপনারই নামে আমার
দেহখানা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠাবো । যদি আপনি ইতিমধ্যে আমার জান কবয
করে নে; তাহলে , তার উপর দয়া করবেন । আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে
হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযত করে থাকেন ।
হাদিস নং: ৫৮৮২ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৮২/১৭: আব্দুল আযীয ইব্ন আব্দুল্লাহ (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে
বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে আমাদের
পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটতম আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন : আমার নিকট দু’আ করবে
কে ? আমি তার দু’আ কবূল করবো । আমার নিকট কে চাবে ? আমি তাকে দান করবো । আমার কাছে
কে তার গুনাহ মাফী চাবে ? আমি তাকে মাফ করে দেবো ।
হাদিস নং: ৫৮৮৪ (দু‘আ অধ্যায়)
৫৮৮৪/১৯: মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… শাদ্দাদ ইব্ন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । নবী
(সাঃ) বলেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো : “ইয়া আল্লাহ! আপনিই আমার পালনকর্তা । আপনি
ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই । আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই গোলাম । আর আমি
আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গিকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়েম আছি
। আমি আমার প্রতি আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং কৃতগুনাহসমূহকে স্বীকার করছি । সুতরাং
আমাকে ক্ষমা করে দিন । কারন আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই । আমি আমার কৃতগুনাহের
মন্দ পরিণাম থেকে আপনার কাছে পানাহ্ চাচ্ছি ।” যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় এ দু’আ পড়বে,
আর এ রাতেই মারা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে । রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন : সে হবে জান্নাতী
। আর যে ব্যক্তি সকালে এ দু’আ পড়বে, আর এ দিনই মারা যাবে সেও অনুরূপ জান্নাতী হবে ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
