৫৬০৪/৬০: মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত ।
একবার একদল ইয়াহুদী নবী (সাঃ) এর নিকট এসে বললোঃ “আস্-সামু আলাইকুম” (আপনার উপর মরণ
আসুক) । হযরত আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ তোমাদের উপরই এবং তোমাদের উপর আল্লাহর লা‘নত ও গযব
পতিত হোক । তখন নবী (সাঃ) বললেনঃ হে আয়িশা! তুমি একটু থামো । নম্রতা অবলম্বন করা তোমার
কর্তব্য । রূঢ় ব্যবহার ও অশালীন আচরণ পরিহার করো । আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ তারা যা বলেছে,
তা কি আপনি শোনেন নি ? নবী (সাঃ) বললেনঃ আমি যা উত্তর দিলাম, তুমি কি তা শোননি ? আমি
তাদের এ কথাটা তাদের উপর ফিরিয়ে দিয়েছি । সুতরাং আমার কথাই তাদের ব্যাপারে কবূল হবে
আর আমার ব্যাপারে তাদের কথা কবূল হবে না ।
কুরআন শরীফ,বুখারী শরীফ,মুসলিম শরীফ,নাসায়ী শরীফ,আবু দাউদ শরীফ,তিরমিযী শরীফ,ইবনে মাজাহ শরীফ
সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২
হাদিস নং: ৫৬০৫ (আচার-ব্যবহার অধ্যায়)
৫৬০৫/৬১: আসবাগ (রঃ) ……… আনস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন,
নবী (সাঃ) গালি-গালাজকারী, অশালীন ও অভিশপদাতা ছিলেন না । তিনি আমাদের কারো উপর নারায
হলে, কেবল এতটুকু বলতেন, তার কি হলো । তার কপাল ধুলাময় হোক ।
হাদিস নং: ৫৬০৬ (আচার-ব্যবহার অধ্যায়)
৫৬০৬/৬২: আমর ইব্ন ঈসা (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি
নবী (সাঃ) এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলো । তিনি লোকটিকে দেখে বললেনঃ সে সমাজের নিকৃষ্ট
লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান । এরপর সে যখন এসে বসলো, তখন নবী (সাঃ) তার সামনে আনন্দ
প্রকাশ করেন এবং উদারতার সাথে মেলামেশা করেন । লোকটি চলে গেলে আয়িশা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা
করলেনঃ ইয়া রাসূল্লাহ! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার সম্পর্কে এরূপ বললেন, পরে তার
সাথে আপনি সহাস্যে ও উদার প্রাণে সাক্ষাৎ করলেন । তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেনঃ হে
আয়িশা! তুমি কখন আমাকে অশালীন রূপে পেয়েছ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকেমানুষের
মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার বদ স্বভাবের কারণে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে
।
হাদিস নং: ৫৬০৭ (আচার-ব্যবহার অধ্যায়)
৫৬০৭/৬৩: আমর ইব্ন আওন (রঃ) ……… হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম
(সাঃ) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবার চাইতে অধিক দানশীল এবং লোকদের মধ্যে সর্বাধিক
সাহসী ছিলেন । একদা রাতের বেলায় (একটি বিকট আওয়াজ শুনে) মদীনাবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত
হয়ে পড়ে । তাই লোকেরা সেই শব্দের দিকে রওনা হয় । তখন তারা নবী (সাঃ) কে সামনা-সামনি
পেলেন, তিনি সে আওয়াজের দিকে লোকদের আগেই বের হয়ে গিয়েছিলেন । তিনি বলতে লাগলেনঃ তোমরা
ঘাবড়িওনা, তোমরা ঘাবড়িওনা, (আমি দেখে এসেছি, কিছুই নেই) । এ সময় তিনি আবূ তালহা (রাঃ)
এর জিন বিহীন ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন । আর তাঁর কাঁধে একখানা তলোয়ার ঝুলছিল । এরপর তিনি
বললেনঃ অবশ্যে এ ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের মত (দ্রুতগামী) পেয়েছি । অথবা বললেনঃ এ ঘোড়াটিতো
একটি সমুদ্র ।
হাদিস নং: ৫৬০৮ (আচার-ব্যবহার অধ্যায়)
৫৬০৮/৬৪: মুহাম্মদ ইব্ন কাসীর (রঃ) ……… হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত ।
তিনি বলেন, নবী (সাঃ) এর নিকট এমন কোন জিনিসই চাওয়া হয়নি, যার উত্তরে তিনি ‘না’ বলেছেন
।
হাদিস নং: ৫৬০৯ (আচার-ব্যবহার অধ্যায়)
৫৬০৯/৬৫: উমর ইব্ন হাফস (রঃ) ……… মাসরূক (রঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ
একবার আমরা আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর (রাঃ) এর নিকট বসাছিলাম । তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা
করছিলেন । তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্বভাবত অশালীন ছিলেন না এবং তিনি ইচ্ছা করেও
কাউকে অশালীন কথা বলতেন না । তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব-চরিত্র ভাল, সেই
তোমাদের মধ্যে সব চাইতে উত্তম ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)