সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৪

হাদিস নং: ৪৯৬৪ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৪/০৫ উমর ইব্ন হাফস (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ উত্তম সাদাকা হলো যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে । উপরের হাত নীচের হাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ । যাদের ভরণ-পোষণ তোমার যিম্মায় তাদের আগে দাও । (কেননা) স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও, নতুবা তালাক দাও । গোলাম বলবে, খাবার দাও এবং কাজ করাও । ছেলে বলবে, আমাকে খাবার দাও, আমাকে তুমি কার কাছে রেখে যাচ্ছ ? লোকেরা জিজ্ঞাসা করলঃ হে আবূ হুরায়রা (রাঃ) আপনি কি এ হাদীস (রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) থেকে শুনেছেন ? তিনি উত্তরে বললেন, এটি আবূ হুরায়রা জামবিলের নয় (বরং হুযূর (সাঃ) থেকে )
  • কারো কারো মতে “লা-) এর সম্পর্ক পূর্বের উক্তির সাথে । পূর্ণ হাদীস নবী (সাঃ) থেকে শ্রুত নয় বরং শেষ অংশ আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর নিজস্ব ব্যাখ্যা ।

 

হাদিস নং: ৪৯৬৫ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৫/০৬ সাঈদ ইব্ন উফায়র (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন উত্তম দান তাই, যা দিয়ে মানুষ অভাবমুক্ত থাকে । যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্ব তাদের থেকে আরম্ব কর ।

হাদিস নং: ৪৯৬৬ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৬/০৭ মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রঃ) ……… মা‘মার (রঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, সাওরী (রঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য বছরের বা বছরের কিছু অংশের খাদ্য সঞ্চয় করে রাখা সম্পর্কে আপনি কোন হাদীস শুনেছেন কি ? মা‘মার (রঃ) বলেনঃ তখন আমার কোন হাদীস মনে হলো না । পরে একটি হাদীসের কথা আমার মনে পড়ল, যা ইব্ন শিহাব যুহরী (রঃ) মালিক ইব্ন  আওসের সূত্রে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাঃ) বনূ নাযীরের খেজুর বিক্রি করে ফেলতেন এবং পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য সঞ্চয় করে রাখতেন ।

হাদিস নং: ৪৯৬৭ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৭/০৮ সাঈদ ইব্ন উফায়র (রঃ) ……… হযরত মালিক ইব্ন আওস ইব্ন হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি হযরত উমর (রাঃ) এর কাছে উপস্থিত হলাম, এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা এসে বলল, উসমান আব্দুর রহমান, যুবায়র ও সা‘দ ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইছেন । আপনার অনুমতি আছে কি ? তিনি তাঁদের অনুমতি দিলেন । মালিক (রাঃ) বলেনঃ তাঁরা প্রবেশ করলেন এবং সালাম করে বসলেন । এর কিছুক্ষণ পর ইয়ারফা এসে বললঃ হযরত আলী ও আব্বাস (রাঃ) অনুমতি চাইছেন, আপনার অনুমতি আছে কি ? তিনি হ্যা বলে এদের উভয়কেও অনুমতি দিলেন । তাঁরা প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বসলেন । তারপর হযরত আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরূল মু‘মিনীন! আামর ও আলীর মধ্যে ফয়সালা করে দিন । উপস্থিত উসমান ও তাঁর সঙ্গীরাও বললেনঃ হে আমীরূল মু‘মিনীন! এঁদের উভয়ের মধ্যে ফয়সালা করে দিন এবং একজন থেকে অপর জন কে শান্তি দিন । হযরত উমর (রাঃ) বললেনঃ থাম! আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহ্র কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা , যার আদেশে আসমান ও জমীন ঠিক আছে । তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ আমাদের কেউ ওয়ারিস হয় না । আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা । এ কথা দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) নিজেকে (এবং অন্যান্য নবীগণকে) বুঝাতে চেয়েছেন । সে দলের লোকেরা বললেনঃ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তা বলেছেন । তারপর হযরত উমর (রাঃ) হযরত আলী ও আব্বাস (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্র কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা দুজন কি জান যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এ কথা বলেছেন ?তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই তা বলেছেন । হযরত উমর (রাঃ) বললেন, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলোঃ এ মালে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে একটি বিশেষ অধিকার দিয়েছেন, যা তিনি ছাড়া আর কাউকে দেননি । আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ আল্লাহ্ ইয়াহূদীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে যে ফায় (বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) দিয়েছেন .... সর্বশক্তিমান পর্যন্ত ।(হাশর:৬)  একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর জন্য নির্ধারিত ছিল । আল্লাহ্র কসম! তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে একাকী ভোগ করেন নি এবং কাউকে তোমাদের উপর প্রাধান্য দেননি । এ থেকে তিনি তোমাদের দিয়েছেন এবং কিছু তোমাদের মধ্যে বিতরণ করেছেন । শেষ পর্যন্ত এ মালটুকু অবশিষ্ট থেকে যায় । এ মাল থেকেই রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাঁর পরিবারের সারা বছরের খরচ দিতেন ।আর যা উদ্বৃত্ত থাকত, তা আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যবহার্য মালের সাথে ব্যয় করতেন । রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) জীবনভর এরকমই করেছেন । আল্লাহ্র কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি এ বিষয় জান ? তাঁরা বললেনঃ হ্যা জানি । এরপর তিনি হযরত আলী ও আব্বাস (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমি আল্লাহ্র কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি এ বিষয় জান ? তাঁরা উভয়ে বললেনঃ হ্যা জানি । এরপর আল।রাহ্ তাঁর নবীকে ওফাত দিলেন । তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর স্থলাভিষিক্ত । আবূ বকর এ মাল নিজ কবজায় রাখলেন এবং এ মাল খরচের ব্যাপারে লাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর নীতিই অবলম্বন করলেন । হযরত আলী ও আব্বাস (রাঃ) এর দিকে ফিরে হযরত উমর (রাঃ) বললেনঃ তোমরা তখন মনে করতে আবূ বকর এমন, এমন । অথচ আল্লাহ্ জানেন এ ব্যাপারে তিনি সত্য কল্যাণকামী, সাঠক নীতির অনুসারী । আল্লাহ্ আবূ বকর (রাঃ) কে ওফাত দিলেন । আমি বললামঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ও আবূ বকর (রাঃ) এর স্থলাভিষিক্ত এরপর আমি দুবছর এ মাল নিজ কব্জায় রাখি । আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ও আবূ বকর (রাঃ) এর অনুসৃত নীতিরই অনুসরণ করতে থাকি । তারপর তোমরা দুজন আসলে, তখন তোমরা উভয়ে, ঐক্যমত ছিলে এবং তোমাদের বিষয়ে সমন্বয় ছিল । তুমি আসলে ভ্রাতুস্পুত্রের সম্পত্তিতে তোমার অংশ চাইতে । আর এ আসলো শ্বশুরের সম্পত্তিতে স্ত্রীর অংশ চাইতে । আমি বলেছিলামঃ তোমরা যদি চাও, তবে আমি এ শর্তে তোমাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তোমরা আল্লাহ্র সহিত ওয়াদা ও অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে যে, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ), আবূ বকর (রাঃ) এবং এর কর্তৃত্ব হাতে পাওয়ার পর আমিও যে নীতির অনুসরন করে এসেছি, তোমরাও সে নীতিরই অনুসরণ করবে । অন্যথায় এ ব্যাপারে আমার সাথে কোন কথা বলবে না । তখন তোমরা বলেছিলেঃ এ শর্ত সাপেক্ষেই আমাদের কাছে দিয়ে দিন । তাই অমি এ শর্তেই তোমাদের তা দিয়েছিলাম । তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের সকলকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি,  আমি কি এ শর্তে এটি তাদের কাছে দেইনি ? তাঁরা বললেনঃ হ্যা । তারপর তিনি হযরত আলী ও আব্বাস (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্র কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, আমি কি এ শর্তেই এটি তোমাদের কাছে দেইনি ?  তাঁরা বললেনঃ হ্যা । তিনি বললেনঃ তবে এখন কি তোমরা আমর কাছে এ ছাড়া অন্য কোন ফয়সালা চাইছ ? সেই সত্তার কসম! যাঁর আদেশে আসমান-যমীন টিকে আছে, আমি কিয়ামত পর্যন্ত এ ছাড়া অন্য কোন ফায়সালা দিতে প্রস্তুত নই । তোমরা যদি উল্লেখিত শর্ত পালন করতে অক্ষম হও, তাহলে তা আমার জিম্মায় ফিরিয়ে দাও তোমাদের পক্ষ থেকে আমই এর পরিচালনা করব ।

হাদিস নং: ৪৯৬৮ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৮/০৯ ইব্ন মুকাতিল (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, হিনদা বিনতে উতবা এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবূ সুফিয়ান কঠিন লোক । আমি যদি তার মাল থেকে পরিবারের কাউকে কিছু দেই তাহলে আমার কি গুনাহ হবে ? তিনি বললেনঃ না, তবে সঙ্গত ভাবে ব্যয় করবে ।

হাদিস নং: ৪৯৬৯ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৬৯/১০ ইয়াহইয়া (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যদি কোন মহিলা স্বামীর উপার্জন থেকে বিনা হুকুমে দান করে, তবে সে তার অর্ধেক সাওয়াব পাবে ।

হাদিস নং: ৪৯৭০ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭০/১১ মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা হযরত ফাতিমা (রাঃ) যাঁতা ব্যবহারে তাঁর হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ নিয়ে নবী (সাঃ) এর কাছে আসলেন । তাঁর কাছে নবী (সাঃ) এর নিকট আসার খবর দাস পৌছেছিল । কিন্ত তিনি নবী (সাঃ) কে পেলেন না । তখন তিনি তাঁর অভিযোগ হযরত আয়িশা (রাঃ) এর কাছে বললেন । নবী (সাঃ) ঘরে আসলে হযরত আয়িশা (রাঃ) তাঁকে জানালেন । হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ রাতে আমরা যখন শুয়ে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে অসলেন । আমরা উঠতে চাইলাম, কিন্ত তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়ে নিজ স্থানে থাক । তিনি এসে আমার ও ফাতিমার মাঝখানে বসেলেন । এমনকি আমি আমার পেটে তাঁর পায়ের শীতলতা অনুভব করেছিলাম । তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে কি কল্যাণকর বিষয় সম্বন্ধে তোমাদের অবহিত করব না ? তোমরা যখন তোমাদের শয্যাস্থানে যাবে, অথবা বললেনঃ তোমরা যখন তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন ৩৩বার “সুবহানাল্লাহ্”, ৩৩বার “আল্ হামদুলিল্লাহ্” এবং ৩৪বার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করবে । খাদেম অপেক্ষা ইহা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ।
 

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

হাদিস নং: ৪৯৭১ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭১/১২ হুমায়দী (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হযরত ফাতিমা (রাঃ) একজন খাদেম চাইতে নবী (সাঃ০ এর কাছে আসলেন । নবী (সাঃ) বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে অধিক কল্যাণকর বিষঢে খবর দিব না ? তুমি শয়নকালে ৩৩বার “সুবহানাল্লাহ্”, ৩৩বার “আলহামদুলিল্লাহ্” এবং ৩৩বার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করবে । পরে সুফিয়ান বরলেনঃ এর মধ্যে যে কোন একটি ৩৪বার । হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ এরপর থেকে কখনোও আমি এগুলো ছাড়িনি । জিজ্ঞাসা করা হলো সিফ্ফীনের রাতেও না ? তিনি বললেনঃ সিফ্ফীনের রাতেও না ।

হাদিস নং: ৪৯৭২ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭২/১৩ মুহাম্মদ ইব্ন আর‘আরা (রঃ) ……… আসওয়াদ ইব্ন ইয়াযীদ (রঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি হযরত আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাঃ) গৃহে কি কাজ করতেন ? তিনি বললেনঃ তিনি ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন, আর যখন আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে যেতেন ।

হাদিস নং: ৪৯৭৩ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৩/১৪ মুহাম্মদ ইব্ন মুসান্না (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হিনদা বিনতে উতবা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবূ সুফিয়ান  । তিনি বলেন, হিনদা বিনতে উতবা এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্!আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক । আমাকে এ পরিমাণ খরচ দেননা, যা আমার ও আামর সন্তানদের জন্য যথেষ্ট, তবে তার অজান্তে যা আমি (চাই) তা নিতে পারি । তখন তিনি বললেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য নিয়মানুসারে যা যথেষ্ট হয় তা তুমি নিতে পার ।