৬৫৪১/৩১: সাঈদ
ইব্ন উফায়র (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্
(সাঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ বিশদ অর্থবহ বানী সহকারে প্রেরণ করা
হয়েছে এবং ভীতি উদ্রেককারী প্রভাব দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে । একদা আমি ঘুমিয়ে
ছিলাম । আমার কাছে ভূ-পৃষ্ঠের ভাণ্ডার সমুহের চাবি পেশ করে আমার সামনে রাখা হল । (আবূ
আবদুল্লাহ) মুহাম্মাদ বুখারী (রহঃ) বলেনঃ আমার কাছে এ কথা পৌছেছে যে, ‘সংক্ষিপ্ত অথচ
বিশদ অর্থবহ বানী’ -এর অর্থ হল, আল্লাহ্ এর অনেক বিষয় যা পূর্ববতী কিতাব সমুহে লেখা
হত --- একটি অথবা দুটি বিষয়ে সন্নিবেশিত করে দেন । অথবা এর অর্থ অনুরূপ কিছু ।
কুরআন শরীফ,বুখারী শরীফ,মুসলিম শরীফ,নাসায়ী শরীফ,আবু দাউদ শরীফ,তিরমিযী শরীফ,ইবনে মাজাহ শরীফ
রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৪
হাদিস নং: ৬৫৪২ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪২/৩২: আবদুল্লাহ্
ইব্ন মুহাম্মাদ ও খলীফা (রহঃ) . . . . . হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রাঃ)এথকে বর্ণিত
। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি বাগিচায় আছি । বাগিচার মাঝখানে একটি
স্তম্ভ । স্তম্ভের শিরোভাগে একটি হাতল । তখন আমাকে বলা হল, উপরের দিকে উঠ । আমি বললাম,
পারছি না । তখন আমার কাছে একজন খাদেম আসল এবং আমার কাপড় গুটিয়ে/ভিজিয়ে দিল । আমি উপরের
দিকে উঠতে উঠতে হাতলটি ধরে ফেললাম । হাতলটি ধরে থাকা অবস্থায় আমি জেগে গেলাম । অতঃপর
এ স্বপ্ন নাবী (সাঃ) -এর কাছে বর্ণনা করলাম । তিনি বললেনঃ ঐ বাগিচা ইসলামের বাগিচা,
ঐ স্তম্ভ ইসলামের স্তম্ভ, আর ঐ হাতল হল মযবুত হাতল । তুমি মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামকে শক্ত
করে ধরে থাকবে ।
হাদিস নং: ৬৫৪৩ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৩/৩৩: মুআলা
ইব্ন আসাদ (রহঃ) . . . . . হযরত ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে
দেখতে পাই, আমার হাতে যেন রেশমী এক টুকরা কাপড় । জান্নাতের যে স্থানেই তা আমি নিক্ষেপ
করি তা আমাকে সে স্থানে উড়িয়ে নিয়ে যায় । এ স্বপ্ন আমি হযরত হাফসা (রাঃ) এর নিকট বর্ণনা
করলাম । আর হযরত হাফসা (রাঃ) তা নাবী (সাঃ) -এর নিকট বর্ণনা করলেন । তখন তিনি বললেনঃ
তোমার ভাই একজন সৎকর্মপরায়ণ ব্যাক্তি । অথবা বললেনঃ আবদুল্লাহ
তো একজন সৎকর্মপরায়ন ব্যাক্তি ।
হাদিস নং: ৬৫৪৪ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৪/৩৪: আবদুল্লাহ্
ইব্ন সাব্বাহ (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্
(সাঃ) বলেছেনঃ যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে যাবে তখন মু‘মিনের স্বপ্ন খুব কমই অবাস্তবায়িত
থাকবে । আর মু‘মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ । আর নবুয়তের কোন কিছুই
অবাস্তব হতে পারে না । রাবী মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি এরূপ বলছি । তিনি বলেন, এ কথা
বলা হয়ে থাকে যে, স্বপ্ন তিন প্রকার, মনের কল্পনা, শয়তানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শন
এবং আল্লাহ্ এর তরফ হতে সুসংবাদ । তাই যদি কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখে তবে সে যেন তা কারো
কাছে বর্ণনা না করে । বরং উঠে যেন (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয় । রাবী বলেন,
স্বপ্নে শৃংখল দেখা অপছন্দনীয় মনে করা হত এবং পায়ে বেড়ি দেখাকে তারা পছন্দ করতেন ।
বলা হত, পায়ে বেড়ি দেখার ব্যাখ্যা হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা । কাতাদা, ইউনূস, হিশাম
ও আবূ হিলাল (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাঃ) থেকে উক্ত হাদীসকে
বর্ণনা করেছেন । আর কেউ কেউ এসবকে হাদীসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন । (পক্ষান্তরে)
আউদের বর্ণনাকৃত হাদীস সুষ্পষ্ট । ইউনুস (রহঃ) বলেছেনঃ আমি বন্ধনের ব্যাখ্যাকে নাবী
(সাঃ) -এর পক্ষ থেকেই মনে করি । আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেনঃ শৃংখল গলদেশেই
বাঁধা হয় ।
হাদিস নং: ৬৫৪৫ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৫/৩৫: আবদান
(রহঃ) . . . . . তাদেরই এক মহিলা হযরত উম্মুল আলা (রাঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) -এর
হাতে বায়আত করেছিলেন তার থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, যখন মুহাজিরদের বাসস্হান নিরুপণের
জন্য আনসারগণ লটারী দিলেন, তখন আমাদের ঘরে বসবাসের জন্য হযরত উসমান ইব্ন মাযউন (রাঃ)
আমাদের ভাগে পড়েন । তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে আমরা তাঁর সেবা-শশ্রুষা করি । অবশেযে
তিনি মারা যান । এরপর আমরা তাকে তাঁর কাপড় দিয়েই কাফন পরিয়ে দেই । ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ্
(সাঃ) আমাদের ঘরে আসলেন । তখন আমি বললাম, হে আবূ সাইব! তোমার ওপর আল্লাহ্ এর রহমত
হোক । তোমার বেলায় আমার সাক্ষ্য এই যে আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন । তিনি বললেনঃ
তুমি তা কি করে জানলে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এর কসম! আমি জানি না । তিনি বললেনঃ তার তো
মৃত্যু হয়ে গেছে, আমি তার জন্য আল্লাহ্ এর পক্ষ থেকে কল্যাণেরই আশাবাদী । আল্লাহ্ এর
কসম! আমি আল্লাহ্ এর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে, আমার সাথে এবং তোমাদের সাথে কি
ব্যবহার করা হবে? হযরত উম্মুল আলা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ্ এর কসম! আমি আর কখনও কারো শুদ্ধচিত্ততা প্রত্যায়ন করব
না । হযরত উম্মুল আলা (রাঃ) বলেনঃ আমি স্বপ্নে হযরত উসমান (রাঃ)-এর জন্য প্রবাহমান
ঝর্ণা দেখেছি । রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) -এর কাছে এসে তা বর্ণনা করলাম । তখন তিনি বললেনঃ
এটা তাঁর আমল তার জন্য জারি থাকবে ।
হাদিস নং: ৬৫৪৬ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৬/৩৬: ইয়াকুব
ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন কাসীর (রহঃ) . . . . . হযরত ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ একদা (আমি স্বপ্নে দেখলাম) আমি একটি কূপের পাশে বসে কূপ
থেকে পানি উত্তোলন করছি । ইত্যবসরে আমার কাছে হযরত আবূ বকর ও উমর (রাঃ) আসল । হযরত
আবূ বকর (রাঃ) বালতিটি হাতে নিয়ে এক বা দু-বালতি পানি উঠাল । আর তার উত্তোলনে কিছুটা
দুর্বলতা ছিল । আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করূন । এরপর হযরত আবূ বকর (রাঃ) এর হাত থেকে হযরত
উমর (রাঃ) তা গ্রহণ করল । তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল । আমি কোন শক্তিশালী ব্যাক্তিকে
উমরের ন্যায় এতটা ঝানূ কর্মঠ দেখিনি । ফলে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে
পৌছে গেল ।
হাদিস নং: ৬৫৪৭ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৭/৩৭: আহমাদ
ইব্ন ইউনূস (রহঃ) . . . . . সালিমের পিতা হযরত আবদুল্লাহ ইরন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত
। তিনি আবূ বকর ও উমর (রাঃ) সম্পর্কে নাবী (সাঃ) এর স্বপ্ন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আমি লোকদেরকে সমবেত হতে দেখলাম । তখন হযরত আবূ বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে
এক বা দুবালতি পানি উত্তোলন করল । আর তার উত্তোলনে কিছু দুর্বলতা ছিল । আল্লাহ্ তাকে
ক্ষমা করূন । এরপর হযরত ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) দাঁড়াল । আর তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে
গেল । আমি লোকদের মধ্যে হযরত উমর (রাঃ) এর ন্যায় এতটা ঝানূ কর্মঠ কাউকে দেখিনি । ফলে
লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলি নিয়ে বাসস্থানে পৌছে গেল ।
হাদিস নং: ৬৫৪৮ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৮/৩৮: সাঈদ
ইব্ন উফায়র (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্
(সাঃ) বলেছেনঃ একদা আমি নিন্দ্রিায় ছিলাম । দেখলাম, আমি একটি কূপের পাশে রয়েছি । আর
এর নিকট একটি বালতি রয়েছে । আমি কূপ থেকে পানি উত্তোলন করলাম যতখানি আল্লাহ্ এর ইচ্ছা
ছিল । এরপর বালতিটি ইব্ন আবূ কুহাফা গ্রহন করেন । তিনি কুপ থেকে এক বা দু-বালতি পানি
উত্তোলন করেন । তার উত্তোলনে কিছুটা দুর্বলতা ছিল । আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করূন । তারপর
বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল । তখন তা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) গ্রহণ করল । আমি কোন শক্তিশালী
ব্যাক্তিকে উমরের ন্যায় পানি উত্তোলন করতে দেখিনি । অবশেষে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত
উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌছে গেল ।
হাদিস নং: ৬৫৪৯ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৪৯/৩৯: ইসহাক
ইব্ন ইবরাহীম (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্
(সাঃ) বলেছেনঃ আমি একদা নিদ্রায় ছিলাম । দেখলাম, আমি একটি হাউযের কাছ থেকে লোকদেরকে
পানি পান করাচ্ছি । তখন আমার কাছে আবূ বকর (রাঃ) আসল । আমাকে বিশ্রাম দেওয়ার নিমিত্তে
আমার হাত থেকে সে বালতিটি নিয়ে গেল এবং দু বালতি পানি উঠাল । আর তার উভোলনে কিছুটা
দূর্বলতা ছিল । আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করূন । এরপর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এসে তার কাছ থেকে
তা নিয়ে নিল এবং পানি উত্তোলন করতে থাকল । অবশেষে লোকেরা (পরিতৃপ্ত হয়ে) ফিরে গেল,
অথচ হাউযের পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ।
হাদিস নং: ৬৫৫০ (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান অধ্যায়)
৬৫৫০/৪০: সাঈদ
ইব্ন উফায়র (রহঃ) . . . . . হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা
আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) -এর কাছে বসা ছিলাম । তখন তিনি বললেনঃ আমি এক সময় ঘুমিয়ে ছিলাম
। আমি আমাকে জান্নাতে দেখতে পেলাম । একজন মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে ওযু করছে । আমি
জিজ্ঞাসা করলাম, এই প্রাসাদটি কার? তারা বলল উমরের । তখন তার আত্নমর্যাদাবোধের কথা
স্বরণ করলাম । তাই আমি ফিরে এলাম । হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ এ কথা শুনে হযরত উমর
ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেনঃ আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কুরবান হোক!
হে আল্লাহ্ এর রাসূল (সাঃ) (আপনার উপরেও কি) আমি আত্নমর্যাদাবোধ প্রদর্শন করব ?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)