শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১২

৫৩) সূরা আন-নাজম ( মক্কায় অবতীর্ণ ) আয়াত - ৬২

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

০১. নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
০২. তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
০৩. এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।
০৪. কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।
০৫. তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা,
০৬. সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল।
০৭. উর্ধ্ব দিগন্তে,
০৮. অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল।
০৯. তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।
১০. তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।
১১. রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।
১২. তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?
১৩. নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,
১৪. সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,
১৫. যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।
১৬. যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।
১৭. তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।
১৮. নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।
১৯. তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
২০. এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
২১. পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
২২. এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
২৩. এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।
২৪. মানুষ যা চায়, তাই কি পায়?
২৫. অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।
২৬. আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।
২৭. যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
২৮. অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।
২৯. অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন।
৩০. তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।
৩১. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।
৩২. যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।
৩৩. আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৩৪. এবং দেয় সামান্যই ও পাষাণ হয়ে যায়।
৩৫. তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?
৩৬. তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে,
৩৭. এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল?
৩৮. কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।
৩৯. এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,
৪০. তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।
৪১. অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।
৪২. তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি,
৪৩. এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান
৪৪. এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান,
৪৫. এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।
৪৬. একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।
৪৭. পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই,
৪৮. এবং তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন।
৪৯. তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক।
৫০. তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন,
৫১. এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি।
৫২. এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য।
৫৩. তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন।
৫৪. অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার।
৫৫. অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে?
৫৬. অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে-ও একজন সতর্ককারী।
৫৭. কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।
৫৮. আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
৫৯. তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?
৬০. এবং হাসছ-ক্রন্দন করছ না?
৬১. তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ,
৬২. অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর। [ সেজদাহ্ ]
সমাপ্ত

৫৪) সূরা আল ক্বামার ( মক্কায় অবতীর্ণ ) আয়াত - ৫৫


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

০১. কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।
০২. তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু।
০৩. তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়।
০৪. তাদের কাছে এমন সংবাদ এসে গেছে, যাতে সাবধানবাণী রয়েছে।
০৫. এটা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে সতর্ককারীগণ তাদের কোন উপকারে আসে না।
০৬. অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহবানকারী আহবান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে,
০৭. তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পংগপাল সদৃশ।
০৮. তারা আহবানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেরা বলবেঃ এটা কঠিন দিন।
০৯. তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমার বান্দা নূহের প্রতি এবং বলেছিলঃ এ তো উম্মাদ। তাঁরা তাকে হুমকি প্রদর্শন করেছিল।
১০. অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বললঃ আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর।
১১. তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে।
১২. এবং ভুমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকম্পিত কাজে।
১৩. আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও পেরেক নির্মিত জলযানে।
১৪. যা চলত আমার দৃষ্টি সামনে। এটা তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল, যাকে প্রত্যখ্যান করা হয়েছিল।
১৫. আমি একে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
১৬. কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
১৭. আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
১৮. আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কেমন কঠোর হয়েছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
১৯. আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্জাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে।
২০. তা মানুষকে উখাত করছিল, যেন তারা উপাটিত খর্জুর বৃক্ষের কান্ড।
২১. অতঃপর কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
২২. আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
২৩. সামুদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।
২৪. তারা বলেছিলঃ আমরা কি আমাদেরই একজনের অনুসরণ করব? তবে তো আমরা বিপথগামী ও বিকার গ্রস্থরূপে গণ্য হব।
২৫. আমাদের মধ্যে কি তারই প্রতি উপদেশ নাযিল করা হয়েছে? বরং সে একজন মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।
২৬. এখন আগামীকল্যই তারা জানতে পারবে কে মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।
২৭. আমি তাদের পরীক্ষার জন্য এক উষ্ট্রী প্রেরণ করব, অতএব, তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ এবং সবর কর।
২৮. এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানির পালা নির্ধারিত হয়েছে এবং পালাক্রমে উপস্থিত হতে হবে।
২৯. অতঃপর তারা তাদের সঙ্গীকে ডাকল। সে তাকে ধরল এবং বধ করল।
৩০. অতঃপর কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
৩১. আমি তাদের প্রতি একটিমাত্র নিনাদ প্রেরণ করেছিলাম। এতেই তারা হয়ে গেল শুষ্ক শাখাপল্লব নির্মিত দলিত খোয়াড়ের ন্যায়।
৩২. আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
৩৩. লূত-সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।
৩৪. আমি তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তর বর্ষণকারী প্রচন্ড ঘূর্ণিবায়ু; কিন্তু লূত পরিবারের উপর নয়। আমি তাদেরকে রাতের শেষপ্রহরে উদ্ধার করেছিলাম।
৩৫. আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ। যারা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে, আমি তাদেরকে এভাবে পুরস্কৃত করে থকি।
৩৬. লূত (আঃ) তাদেরকে আমার প্রচন্ড পাকড়াও সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। অতঃপর তারা সতর্কবাণী সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করেছিল।
৩৭. তারা লূতের (আঃ) কাছে তার মেহমানদেরকে দাবী করেছিল। তখন আমি তাদের চক্ষু লোপ করে দিলাম। অতএব, আস্বাদন কর আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
৩৮. তাদেরকে প্রত্যুষে নির্ধারিত শাস্তি আঘাত হেনেছিল।
৩৯. অতএব, আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী আস্বাদন কর।
৪০. আমি কোরআনকে বোঝবার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
৪১. ফেরাউন সম্প্রদায়ের কাছেও সতর্ককারীগণ আগমন করেছিল।
৪২. তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমি পরাভূতকারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
৪৩. তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র রয়েছে কিতাবসমূহে?
৪৪. না তারা বলে যে, আমারা এক অপরাজেয় দল?
৪৫. এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।
৪৬. বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর।
৪৭. নিশ্চয় অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত।
৪৮. যেদিন তাদেরকে মুখ হিঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবেঃ অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।
৪৯. আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি।
৫০. আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত।
৫১. আমি তোমাদের সমমনা লোকদেরকে ধ্বংস করেছি, অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
৫২. তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে।
৫৩. ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ।
৫৪. খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে।
৫৫. যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে।
সমাপ্ত