৫৭৯৪/০১: ইয়াহ্ইয়া ইব্ন জাফর (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
যে, নবী (সাঃ) বলেছেন : আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আঃ) কে তাঁর যথাযথ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন,
তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত । তিনি তাঁকে সৃষ্টি করে বললেন : তুমি যাও । উপবিষ্ট ফিরিশতাদের
এই দলকে সালাম করো এবং তুমি মনোযোগ সহকারে শোনবে তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয়? কারণ
এটাই হবে তোমার ও তোমার বংশধরের সম্ভাষণ (তাহিয়্যা), তাই তিনি গিয়ে বললেন : ‘আস্সালামু
আলাইকুম’ । তাঁরা জবাবে বললেন : ‘আস্সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ । তাঁরা বাড়িয়ে
বললেন : ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বাক্যটি । তারপর নবী (সাঃ) আরও বললেন : যারা জন্নাতে প্রবেশ
করবে তারা আদম (আঃ) এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে । তারপর থেকে এ পর্যন্ত মানুষের আকৃতি ক্রমশ
হ্রাস পেয়ে আসছে ।
কুরআন শরীফ,বুখারী শরীফ,মুসলিম শরীফ,নাসায়ী শরীফ,আবু দাউদ শরীফ,তিরমিযী শরীফ,ইবনে মাজাহ শরীফ
শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১২
হাদিস নং: ৫৭৯৫ (অনুমতি চাওয়া অধ্যায়)
৫৭৯৫/০২: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে
বর্ণিত । তিনি বলেন, একবার কুরবানীর দিনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফাযল ইব্ন আব্বাস (রাঃ)
কে আপন সাওয়ারীর পিঠে নিজের পিছনে বসালেন । ফাযল (রাঃ) একজন সুন্দর ব্যক্তি ছিলেন ।
নবী (সাঃ) লোকদের মাসলা মাসায়েল বাতলিয়ে দেওয়ার জন্য আসলেন । এ সময় খাশ‘আম গোত্রের
একজন সুন্দরী মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট একটা মাসআলা জিজ্ঞাসা করার জন্য আসল
। তখন ফাযল (রাঃ) তার দিকে তাকাতে লাগলেন । মহিলাটির সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করে দিল
। নবী (সাঃ) ফাযল (রাঃ) এর দিকে ফিরে দেখলেন যে, ফাযল তার দিকে তাকাচ্ছেন । তিনি নিজের
হাত পেছনের দিকে নিয়ে ফাযল (রাঃ) এর চিবুক ধরে ঐ মহিলার দিকে না তাকানোর জন্য তার চেহারা
অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন । এরপর মহিলাটি জিজ্ঞাসা করল : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ তা‘আলার
পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর যে হাজ্জ ফরয হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে, আমার পিতার উপর
তা এমন অবস্থায় এসেছে যে, বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সাওয়ারীর উপর বসতে তিনি সক্ষম নন ।
যদি আমি তার তরফ থেকে হাজ্জ আদায় করে নেই, তবে কি তার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে
? তিনি বললেন : হ্যাঁ ।
হাদিস নং: ৫৭৯৬ (অনুমতি চাওয়া অধ্যায়)
৫৭৯৬/০৩: আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (রঃ) ……… হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)
থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী (সাঃ) বললেন : তোমরা
রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো । তারা বলল : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের রাস্তায় বসা ছাড়া
গত্যন্তর নেই, আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি । তখর তিনি বললেন, যদি তোমাদের রাস্তায় মজলিস
করা ছাড়া উপায় না থাকে, তবে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে । তারা বলল : ইয়া রাসূলাল্লাহ!
রাস্তার দাবী কি ? তিনি বললেন : তাহলো চোখ অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা,
সালামের জবাব দেওয়া এবং সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া আর অসৎকাজে নিষেধ করা ।
হাদিস নং: ৫৭৯৭ (অনুমতি চাওয়া অধ্যায়)
৫৭৯৭/০৪: উমর ইব্ন হাফস (রঃ) ……… হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি
বলেন, যখন আমরা নবী (সাঃ) এর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম, তখন (বসা অবস্থায়) আমরা আল্লাহর
প্রতি তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, জিবরাঈল (আঃ) এর প্রতি সালাম, মীকাঈল (আঃ) এর
প্রতি সালাম এবং অমুকের প্রতি সালাম দিলাম । নবী (সাঃ) যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আমাদের
দিকে চেহারা মুবারক ফিরিয়ে বললেন : আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ‘সালাম’ । অতএব যখন তোমাদের
কেউ সালাতের মধ্যে বসবে, তখন বলবে : “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ………… ওয়ালা ইবাদিল্লাহিছ
ছালিহীন” মুসল্লী যখন এ কথাটা বলবে, তখনই আসমান যমীনে সব নেক বান্দাদের নিকট এ সালাম
পৌঁছে যাবে । তারপর বলবে “আশহাদু আল্লাইলাহা ………… ওয়া রাসূলুহ” তারপর সে তার পছন্দমত
দু‘আ নির্বাচন করে নিবে ।
হাদিস নং: ৫৭৯৮ (অনুমতি চাওয়া অধ্যায়)
৫৭৯৮/০৫: আবুল হাসান ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন মুকাতিল (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা
(রাঃ) থেকে বর্ণিত । নবী (সাঃ) বলেছেন : ছোট বড়কে, পথচারী উপবিষ্ট লোককে এবং অল্প সংখ্যক
লোক বেশী সংখ্যক লোকদের সালাম দিবে ।
হাদিস নং: ৫৭৯৯ (অনুমতি চাওয়া অধ্যায়)
৫৭৯৯/০৬: মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : আরোহী ব্যক্তি পদচারীকে, পদচারী ব্যক্তি উপবিষ্টকে
এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যককে সালাম করবে ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)