বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০১৪

হাদিস নং: ৪৯৭১ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭১/১২ হুমায়দী (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হযরত ফাতিমা (রাঃ) একজন খাদেম চাইতে নবী (সাঃ০ এর কাছে আসলেন । নবী (সাঃ) বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে অধিক কল্যাণকর বিষঢে খবর দিব না ? তুমি শয়নকালে ৩৩বার “সুবহানাল্লাহ্”, ৩৩বার “আলহামদুলিল্লাহ্” এবং ৩৩বার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করবে । পরে সুফিয়ান বরলেনঃ এর মধ্যে যে কোন একটি ৩৪বার । হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ এরপর থেকে কখনোও আমি এগুলো ছাড়িনি । জিজ্ঞাসা করা হলো সিফ্ফীনের রাতেও না ? তিনি বললেনঃ সিফ্ফীনের রাতেও না ।

হাদিস নং: ৪৯৭২ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭২/১৩ মুহাম্মদ ইব্ন আর‘আরা (রঃ) ……… আসওয়াদ ইব্ন ইয়াযীদ (রঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি হযরত আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাঃ) গৃহে কি কাজ করতেন ? তিনি বললেনঃ তিনি ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন, আর যখন আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে যেতেন ।

হাদিস নং: ৪৯৭৩ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৩/১৪ মুহাম্মদ ইব্ন মুসান্না (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হিনদা বিনতে উতবা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবূ সুফিয়ান  । তিনি বলেন, হিনদা বিনতে উতবা এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্!আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক । আমাকে এ পরিমাণ খরচ দেননা, যা আমার ও আামর সন্তানদের জন্য যথেষ্ট, তবে তার অজান্তে যা আমি (চাই) তা নিতে পারি । তখন তিনি বললেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য নিয়মানুসারে যা যথেষ্ট হয় তা তুমি নিতে পার ।

হাদিস নং: ৪৯৭৪ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৪/১৫ আলী ইব্ন আব্দুল্লাহ্ (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ উষ্ট্রারোহীণী নারীদের মধ্যে কুরায়শ গোত্রের নারীরা সর্বশ্রেষ্ঠা । অপরএকজন বললেনঃ কুরায়শ গোত্রের স নারীগণ, তারা সন্তানের প্রতি শৈশবে খুব স্নেহশীলা এবং স্বামীর প্রতি বড়ই দরদী তার সম্পদের ক্ষেত্রে । মু‘আুবয়া ও ইব্ন আব্বাসের সূত্রেও উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে ।

হাদিস নং: ৪৯৭৫ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৫/১৬ হাজ্জাজ ইব্ন মিহাল (রঃ) ……… হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ নবী (সাঃ) এর কাছে রেশমী পোশাক আসল । আমি তা পরিধান করলে তাঁর চেহারা মোবারক অসন্তষ্টির চিহ্ন লক্ষ্য করলাম । তাই আমি এটাকে খন্ড খন্ড করে আপন মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করে দিলাম ।

হাদিস নং: ৪৯৭৬ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৬/১৭ মুসাদ্দাদ (রঃ) ……… হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, ৭টি বা ৯টি (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মেয়ে রেখে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন । তারপর আমি এক বিধবা মহিলাকে বিবাহ করি । রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ জাবির! তুমি কি বিয়ে করেছ ? আমি বললামঃ হ্যা । তিনি তারপর জিজ্ঞাসা করলেনঃ কুমারী না বিধবা বিয়ে করেছ ? আমি বললামঃ বিধবা । তিনি বললেনঃ কুমারী করলে না কেন ? তুমি তার সাথে প্রমোদ করতে, সেও তোমার সাথে প্রমোদ করতো । তুমি তাকে হাসাতে, সেও তোমাকে হাসাতো । আমি বললামঃ অনেকগুলো কন্যা সন্তান রেখে আবদুল্লাহ্ (তার পিতা) মারা গেছেন তাই আমি ওদেরই মত কুমারী মেয়ে বিয়ে  করা পছন্দ করিনি । আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করলাম, যে তাদের দেখাশুনা করতে পারে । নবী (সাঃ) বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দিন অথবা বললেনঃ কল্যাণ দান করূন ।

হাদিস নং: ৪৯৭৭ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৭/১৮ আহমাদ ইব্ন ইউনুস (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, নবী (সাঃ) এর নিকট এক ব্যক্তি এলো এবং বললো আমি ধ্বংস হয়ে গেছি । তিনি বললেনঃ কেন ? সে বললোঃ রামাযান মাসে আমি (দিবসে) স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি । তিনি বললেনঃ একটি দাস মুক্ত করে দাও । সে বললোঃ আমার কাছে কিছুই নেই । তিনি বরলেনঃ তাহলে একাধারে দু‘মাস রোযা রাখ । সে বললঃ সে ক্ষমতাও আমার নেই । তিনি বলেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও । সে বললোঃ সে সামর্থ্যও আমার নেই । এ সময় নবী (সাঃ) এর কাছে এক বস্তা খেজুর এল । তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ প্রশ্নকারী কোথায় ? লোকটি বললোঃ আমি এখানে । তিনি বললেনঃ এগুলি দিয়ে সাদকা কর । সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্থকে দিব ? সেই সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, মদীনার প্রস্তরময় দু‘পার্শ্বের মধ্যে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্থ কোন পরিবার নেই । তখন নবী (সাঃ) হাসলেন এমন কি তাঁর চোয়ালের দাঁত মোবারক পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল এবং বললেনঃ তবে তোমাদেরই অনুমতি দেওয়া হল ।

হাদিস নং: ৪৯৭৮ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৮/১৯ মূসা ইব্ন ইসমাঈল (রঃ) ……… হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ)! আবূ সালামার সন্তানদের জন্য ব্যয় করলে তাতে আমার কোন সাওয়াব হবে কি ? আমি তাদের এ (অভাবী) অবস্থায় ত্যাগ করতে পারি না । তারা তো আমারই সন্তান । তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদের জন্য খরচ করলে তুমি সাওয়াব পাবে ।
 

হাদিস নং: ৪৯৭৯ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৭৯/২০ মুহাম্মদ ইব্ন ইউসুফ (রঃ) ……… হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, হিনদা এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ)! আবূ সুফিয়ান ক্রপণ লোক । আমার ও সন্তানের প্রয়োজন মতো যদি তার মাল থেকে কিছু গ্রহণ করি, তবে কি আমার গুনাহ হবে ? তিনি বললেনঃ ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পার । নবী (সাঃ) এর উক্তিঃ যে ব্যক্তি (দেনা ইত্যদির) কোন বোঝা অথবা সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে, তার দায়দায়িত্ব আমার উপর ।

হাদিস নং: ৪৯৮০ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৮০/২১ ইয়াহইয়া ইব্ন বুকায়র (রঃ) ……… হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কাছে দেনাগ্রস্থ কোন মৃত ব্যক্তিকে (জানাযার জন্য) আনা হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করতেনঃ সে কি দেনা পরিশোধ করার মত অতিরিক্ত কিছু রেখে গেছে ? যদি বলা হত যে, সে দেনা পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে, তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন । অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড় । তারপর আল্লাহ্ যখন তাঁর জন্য অসংখ্য বিজয়ের দ্বার খুলে দিলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি মু‘মিনদের নিজেদের চেয়েও বেশী ঘনিষ্ঠতর । সুতরাং মু‘মিনদের মধ্যে যে কেউ দেনা রেখে মারা যাবে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমারই । আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীরা পাবে ।

হাদিস নং: ৪৯৮১ (ভরণ- পোষণ অধ্যায়)

৪৯৮১/২২ ইয়াহইয়া ইব্ন বুকায়ব (রঃ) ……… নবী (সাঃ) এর স্ত্রী হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ)! আমার বোন আবূ সুফিয়ানের মেয়েকে আপনি বিবাহ করূন । তিনি বললেনঃ তুমি কি তা পছন্দ কর ? আমি বললামঃ হ্যা । আমি তো আর আপনার সংসারে একা নই । যারা আমার সঙ্গে এই সৌভাগ্যের অংশীদার, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক তাই আমি বেশী পছন্দ করি । তিনি বললেনঃ কিন্ত সে যে আমার জন্য হালাল হবে না ? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ)! আল্লাহ্র কসম! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আপনি নাকি উম্মে সালামার মেয়ে দুররাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছেন ? তিনি বললেনঃ উম্মে সালামার মেয়েকে ? আমি বললামঃ হ্যাঁ । তিনি বললেনঃ আল্লাহ্র কসম! সে যদি আামর কোলে পালিত, পূর্ব স্বামীর ঔরসে উম্মে সালামার গর্ভজাত সন্তান নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল ছিল না । সে তো আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা । সুওয়ায়বা আমাকে ও আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছে । সুতরাং তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামনে পেশ করো না । শুয়াইব যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উরওয়া বলেছেনঃ সুওয়ায়বাকে আবূ লাহাব মুক্ত করে দিয়েছিলেন ।